লেখক : ঝংকার মাহবুব, মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, মোহাম্মাদ রায়হান উদ্দিন খান, লস্ট মডেস্টি ব্লগ
প্রকাশনী : আদর্শ, ইলম হাউজ পাবলিকেশন, ইলাননূর পাবলিকেশন, দারুত তিবইয়ান
বিষয় : আত্ম উন্নয়ন ও মোটিভেশন, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
কভার : পেপার ব্যাক
ভাষা : বাংলা
আকাশের ওপারে আকাশ:একটা অদ্ভুত সমস্যার মধ্যে আছি আমরা।
সমাজ ও সভ্যতা প্রেমকে মহিমান্বিত করে। প্রেম ছাড়া জীবন রঙহীন, নিষ্প্রাণ। অপূর্ণ। অর্থহীন। জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার চূড়ো হলো প্রেম। বাকি সব সাইডস্টোরি, বাকি সবাই এবং সবকিছু পার্শ্বচরিত্র। আধুনিক মানব ও মানবীরা তাই পথে পথে নেড়েচেড়ে, চেখে দেখে সব নুড়ি পাথর। গভীর এক তৃষ্ণা নিয়ে খুঁজে ফেরে প্রেমের সেই পরশপাথর। আর এই খোঁজকে উপস্থাপন করা হয় মাদকতাময় সৌন্দর্যের সাথে।
আবার, সমাজ ও সভ্যতায় আমরা পতনের চিহ্ন দেখতে পাই। আমরা দেখি হতাশার মহামারি, পরিবারের ভাঙন আর গন্তব্যহীন প্রজন্ম। আমরা দেখি, ক্রাশ কনফেশনস এর কেলেঙ্কারির গল্প। আমরা দেখি শরীরের যথেচ্ছ ব্যবহার, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ভাইরাল ভিডিও, বছরে লক্ষ লক্ষ গর্ভপাত আর মাসে গড়ে ৫০টার মতো আত্মহত্যার খবর। দেখি অবক্ষয়, অধঃপতন আর ক্লেদাক্ত কলুষতা।
দুটো ছবি প্রায় বিপরীতমুখী। আবার একটা আরেকটার সাথে যুক্ত নিবিড়ভাবে। কিন্তু এই সম্পর্কটা আমরা দেখতে পাই না। আমরা দেখতে চাই না। চোখের সামনে সব চিহ্ন থাকার পরও হিসেব মেলে না আমাদের।
কেন এই অদ্ভুত বৈপরীত্য? রহস্যটা কোথায়?
প্রেমের অলীক রূপকথার ঐ আকাশের আড়ালে আরো একটা আকাশ আছে। মাটি আর মানুষের, ঘাসফড়িং আর শিশিরের এবং মৌলিক ভালোবাসার। যে আকাশ আধুনিকতার একমাত্রিক চশমায় ধরা দেয় না।
শুভ্রতায় মোড়ানো সেই আকাশটাকে নিজের করে নেবার ব্যাকরণ নিয়েই আমাদের এই আয়োজন- আকাশের ওপারে আকাশ।ক্যারিয়ার প্ল্যানিং (পেপারব্যাক):ব্যক্তিগত জীবনের কথা যদি বলি, কলেজ লাইফ পর্যন্ত একটা মোহের ভিতর ছিলাম। ভবিষ্যতে কী করব, কীভাবে আগাবো, এই বিষয়ে ধোঁয়াশাপূর্ণ ছিলাম। জব সেক্টর সম্বন্ধে কোনো আইডিয়া না থাকা, সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার প্ল্যানিং না থাকা মূলত এ জন্য দায়ী। অথচ জীবনে সফল হতে এবং সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। স্টুডেন্ট মাত্রই আমাদের প্রত্যেকের জানা অপরিহার্য।তুমি যেভাবে পড়বেঃতুমি কি একজন ছাত্র? পড়ালেখা আর বই পাঠে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে অভ্যস্ত? একের পর এক বই পড়ে যেতে চাও? বই থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে উন্নতির শিখরে সমাসীন দেখতে চাও? তবে তোমাকে অনুসরণ করতে হবে সেসব মনীষীর পাঠধারা—যাদের জ্ঞান-গরিমার ক্ষুদ্রাংশই কেবল আমরা অর্জন করতে পারি।
শুধুমাত্র গথবাঁধা পড়ে গেলে তোমার পাঠ পূর্ণতা পাবে না। তাই তোমাকে এমন একটি ধারা অনুসরণ করতে হবে—যার মাধ্যমে তুমি তোমার পাঠের একটি ক্রমধারা সাজাতে পারো। কীভাবে পড়া শুরু করবে, মনোযোগ ঠিক কীভাবে ধরে রাখবে, কোনো বিষয়কে সহজেই কীভাবে আয়ত্বে রাখবে—এমন অনেক বিষয়ের জ্ঞান এবং ধারণা তোমার পাঠকে তোমার জন্য আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
এসব বিষয়ের জন্য গাডলাইন হিসেবে গ্রহণ করতে পারো এ বইটিকে। তোমার পাঠ এবং মননশীলতায় সমৃদ্ধি-দানে বইটি রাখবে ব্যাপক ভূমিকা। অমনোযোগিতা কাটিয়ে মনোযোগী পাঠক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। যদি তুমি পাঠের মাধ্যমে উপকৃত হতে চাও, অন্যদের উপকৃত করতে চাও—তবে বইটি তোমার জন্যই।চেষ্টার জিমনেসিয়াম ফিউচারের ক্যালসিয়ামঃস্টুডেন্ট লাইফের জাতীয় খাবার হচ্ছে বাঁশ। সে জন্যই হয়তাে পরীক্ষা এলে টিচাররা বাঁশ দেয়। রেজাল্ট খারাপ হলে পাশের বাসার আন্টি বাঁশ দেয়। প্রেম করতে চাইলে যে ফ্রেন্ডটা হেল্প করতে পারত সেইই উল্টা তার নিজের সঙ্গে আংটা লাগিয়ে বাঁশ দেয়। এই রকম শত শত কচি বাঁশ, কঞ্চি বাঁশ, আইক্কাওয়ালা বাঁশকে নাশ করতেই এই বই ‘চেষ্টার জিমনেসিয়াম ফিউচারের ক্যালসিয়াম।
যাতে বাঁশ খেয়ে বেদিশা, লাইফ নিয়ে হতাশা, ফিউচার নিয়ে কুয়াশা, ভাগ্যের তামাশা, সব দুর্দশাকে মুচড়ে ফেলতে পারাে কুংফু স্টাইলে। ক্যালসিয়ামের পাওয়ার দিয়ে।
এই লেখাগুলাতে মাঝেমধ্যেই কিছু চলমান বাংলা এবং ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এবং আন্তরিকতা বােঝাতে কখনাে কখনাে তুই বলে সম্বােধন করা হয়েছে। কারণ ঘনিষ্টতা বােঝাতে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক মহাশয় আপনি কি আমার দুঃখ হবেন না বলে তিনি বলেছেন, ‘তুই কি আমার দুঃখ হবি? তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
এই বই লিখতে জীবনের ওপার থেকে আমাকে সাহস জুগিয়েছেন আমার আব্দু। আর পাশ থেকে সহযােগিতা করে গেছেন আমার আম্মু, আমার স্ত্রী কারিনা, ছােট ভাই হীরা, বােন রিটা, নিপুণ আর নূপুর। এ ছাড়া সব সময় সহযােগিতা করে গেছে লাবীব, শারাফাত, সাজু ভাইসহ আরও অনেকেই।
ক্যালরি ঝরালে, ক্যালসিয়াম বাড়বে। সেই প্রত্যাশায়