লেখক : ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন
প্রকাশনী : সিয়ান পাবলিকেশন
বিষয় : জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বই, প্রফেশনাল ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন, সন্তান প্রতিপালন
ভাষা : বাংলা
সমতার আড়ালে সমকামিতা মিশনমানব সভ্যতা যে উল্টো পথে যাত্রা শুরু করেছে, তার একটি অকাট্য প্রমাণ হলো এলজিবিটি তথা সমকামিতাবাদকে বৈশ্বিক এজেন্ডা হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্বব্যাপী নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আমূল পরিবর্তন ঘটলেও আমরা এর গভীরতা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছি না, এমনকি স্পষ্ট ধারণাও গড়ে ওঠেনি।এলজিবিটি সম্পর্কে কিছু বিচ্ছিন্ন ও আংশিক তথ্য-উপাত্ত কেউ কেউ জানেন, তবে তা অনেকটাই “অন্ধের হাতি দেখা” গল্পের মতো। একজন অন্ধ ব্যক্তি হাতির শুঁড় ধরে সেটিকে মোটা দড়ি বলে মনে করতে পারেন, আবার আরেকজন পা ধরে সেটিকে গাছের কাণ্ড বলে ভাবতে পারেন। এলজিবিটি মতবাদের পুরো বিষয়টিকে সুনিপুণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই শক্তিশালী রেফারেন্সসমৃদ্ধ বইটিতে।বইটিতে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে, যেমন: সমকামী আচরণ কি আসলেই অধিকারের বিষয়? যদি সমকামিতাকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে দেশের সিস্টেম (পলিসি, আইন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য) কীভাবে পরিবর্তিত হয়? সমকামী আচরণের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি রয়েছে? কেন এবং কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, এনজিও এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক এজেন্ডায় পরিণত হলো? সমকামিতা-বান্ধব বিশ্ব গড়তে কারা অর্থায়ন করছে? পরিবার ও সমাজবিরোধী এবং স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব সত্ত্বেও এই আন্দোলন প্রচারের পেছনের মূল অনুপ্রেরণা কী? বাংলাদেশে সমকামী অধিকার আন্দোলনের সূচনা কবে, কারা এর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং এ পর্যন্ত এর কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?বইটিতে রেফারেন্স হিসেবে প্রকাশিত জার্নাল নিবন্ধগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রেফারেন্সের স্ক্রিনশট ও প্রতিবেদনের শিরোনাম (বাংলা ও ইংরেজি) দেওয়া হয়েছে, যা গুগল সার্চের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ইংরেজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে চ্যাটজিপিটি বা গুগল সার্চের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত জানা যায়। প্রমাণের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও QR কোডের মাধ্যমে বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে, যা স্মার্টফোন দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি ইউটিউব লিংকে ভিজিট করা যাবে। এছাড়াও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্সের (পিডিএফ কপি) QR কোড যুক্ত গুগল ড্রাইভ লিংক দেওয়া রয়েছে।শহীদদের শেষ মুহূর্তগুলো (১ম খণ্ড)জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ১,৫০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন। অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৯,০০০ মানুষ। এই বইতে ২৬ জন শহীদের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের আলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। শহীদদের দুর্লভ ছবি ও ভিডিও ক্লিপ QR কোডের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। এত প্রাণ ও রক্তের বিসর্জনের অনুপ্রেরণা কী ছিল শহীদদের?
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কলোনাইজারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা এই ব-দ্বীপের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী কয়েক শত বছর ধরে রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আসছে। এই জনপদের মানুষ যুগের পর যুগ ইংরেজদের শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে—বুলেটের বিপরীতে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে। অসংখ্য প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়। মুসলিম পরিচয় শুধুই রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি ছিল না; এটি একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধের চেতনার প্রতিফলন।
এত ত্যাগের বিনিময়ে মানুষের চাওয়া ছিল সামান্যই; ইনসাফ (মুসলিম হিসেবে অধিকার, সুবিচার, সুশাসন) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এমন এক সমাজ, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে জীবন-জীবিকা গড়তে পারবে এবং নিজেদের মানোন্নয়নে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু নতুন দেশেও সাধারণ মুসলমানদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। ক্ষমতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন, ভারতবেষ্টিত পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মানুষ জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। এরই ফলশ্রুতিতে, অনেক মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে এই জনপদ নতুন দেশ হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন করে।ইনসাফের দাবিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদরা বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রচনা করেন নতুন এক অধ্যায়। হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে ৫ আগস্টে আবারও জেগে ওঠে এক নতুন স্বপ্ন। এত ত্যাগের পরও কি সেই স্বপ্ন, সেই ইনসাফ ভিত্তিক কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা আবারও অধরাই থেকে যাবে?সন্তান প্রতিপালনে এ যুগের চ্যালেঞ্জপ্রত্যেক মাতাপিতাই সুসন্তানের স্বপ্ন লালন করেন যারা বড় হয়ে পরিবার এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগের তুলনায় শিক্ষিত, ছোট পরিবার এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এ যুগের মাতাপিতারা সন্তান লালন-পালন নিয়ে অনেক অজানা এবং অচেনা চ্যালেঞ্জের কারণে দিশেহারা অনুভব করেন।ডিজিটাল প্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি এবং সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক আবহের যে আমুল পরিবর্তন হচ্ছে যা সিংহভাগ পিতামাতার কাছে কল্পনাতীত মনে হতে পারে। শরীরের সব পূর্নাংগ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্ম গ্রহন করলেও একটি শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ শুরু হয় ভুমিষ্ঠ লাভের পর থেকে এবং ২০ বছর বয়সের মধ্যে তা পরিপূর্ণতা পায়।শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে পরিবেশের (পিতামাতার সাথে সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ, প্রকৃতির সাথে সংস্পর্শ, বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, ডিজিটাল মিডিয়া ইত্যাদি) ভূমিকা রয়েছে যা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। শিশুদের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে (০-৫ বছর) নিউরোলোজিক্যাল কিছু ত্রুটি (যেমন-অটিজম, এডিএইচডি, লিখতে-পড়তে অসুবিধা), থ্যালাসেমিয়াসহ আরো স্বাস্থ্যগত বিষয় সম্পর্কে আমাদের দেশের পিতামাতারা অসচেতন। শিশুর স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক বিকাশ (০-৬ বছরের চেকলিস্টসহ) নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে যেন পিতামাতারা সচেতন হতে পারেন।মস্তিষ্ক বিকাশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে (৯-১৪ বছর) কিশোর-কিশোরীদের ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মপরিচয়, যৌন পরিপক্বতা ইত্যাদির বিকাশ ঘটে। এই সময়টিতে এলজিবিটি বা ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ, পর্নোগ্রাফি, মাদকাসক্তি, স্ক্রিন (স্মার্টফোন, ডিজিটাল ডিভাইস) আসক্তি, অপর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি নতুন চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলো গবেষণালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে আলোচনা করে এর মোকাবেলার কৌশল নিয়ে বইটিতে দিক-নির্দেশনা রয়েছে।বইটি সকল শ্রেনীর পাঠকদের জন্য উপযোগী, বিশেষ করে পিতামাতা, শিক্ষক এবং রিলিজিয়াস স্কলারদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।বিসিএস নাকি বিদেশে উচ্চশিক্ষাদীর্ঘ প্রস্তুতির পরও বিসিএস প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমপক্ষে ৯৯%। এত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আমাদের সমাজে বিসিএস জব নিয়ে এক ধরনের উন্মাদনা গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ক্যারিয়ার গঠন করা বিসিএস জবের তুলনায় অনেক সহজ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ বিষয়ে সচেতন নন।বিদেশে উচ্চশিক্ষার্থে মূলত বিজ্ঞান ও প্রকৌশল গ্রাজুয়েটরাই এগিয়ে থাকেন, যদিও তারা মোট গ্রাজুয়েটদের মাত্র ১১%। অন্যদিকে, অন্যান্য বিভাগের ৮৯% গ্রাজুয়েট দেশেও আশানুরূপ চাকরি পাচ্ছেন না, আবার বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগও নিতে পারছেন না। এর মূল কারণ হলো ‘তথ্যঘাটতি’। কীভাবে নিজেকে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং কোন দেশে কী ধরনের সুযোগ রয়েছে—এসব বিষয়ে আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। এই বইয়ে তথ্য-উপাত্ত এবং কিছু কেইস স্টাডির মাধ্যমে বিষয়টি আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সব অনুষদের গ্রাজুয়েটদের জন্য, এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপ্লোমা (কারিগরি), আলিয়া এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্যও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়।বর্ধিত সংস্করণে বেশ কিছু নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্কলারশিপের জন্য কীভাবে সিভি ও মোটিভেশন লেটার তৈরি করতে হয়, তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণা আসলে কী এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, সেই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে কিছু সফলতার গল্পও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Welcome to Safaki.com – your trusted online marketplace in Bangladesh. Based in Demra, Dhaka, we are dedicated to providing a seamless shopping experience with a diverse range of products across various categories.