লেখক : ইয়াসমিন মুজাহিদ, ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল, নিক ট্রিনটন
প্রকাশনী : আদর্শ, রুশদা প্রকাশ, সুলতানস
বিষয় : আত্ম উন্নয়ন ও মোটিভেশন
ওভারকামিং ডিপ্রেশন:“জীবনে সবকিছু আমাদের হাতে থাকে না এবং সবকিছু আমরা কখনোই পরিবর্তন করতে পারব না। এখন, আমরা যদি চাই আমাদের চারপাশের সবকিছু আমাদের মনমতো হবে, এটা কতটা যুক্তিসংগত? কখনো কখনো কিছু নেতিবাচক ঘটনা আমাদের মেনে নিতে হবে এবং তার মধ্য দিয়েই ইতিবাচক সমাধান খুঁজে নিতে হবে। কারণ, জীবনে ব্যর্থতা থাকবেই। আমরা যদি ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের পথ না খুঁজে ‘কেন আমিই ব্যর্থ হলাম’ প্রশ্নে আটকে থাকি, তবে খাপ খাইয়ে নেওয়া আরও কষ্টকর হবে এবং হতাশা বাড়বে।
আমাদের অনেকেরই নিজের প্রতি কিছু অবাস্তব ও অস্বাস্থ্যকর আকাঙ্ক্ষা থাকে। এই আশাগুলো পূরণ হবে না জেনেও আমরা মনে করি, এগুলো পূরণ হবে; পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ি। আর এর পরেই আসে বিষণ্ণতা।
এই বইতে বিষণ্ণতার কারণ, প্রকারভেদ, কিছু উপসর্গ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে আমরা সুস্থতার জন্য কিছু কৌশল শিখব, যা আমাদের নিজেদের তো বটেই, আমাদের আশপাশের মানুষকেও ভালো রাখতে সাহায্য করবে।স্টপ ওভার থিংকিং:আজকের দিনে অতিচিন্তা বা দুঃশ্চিন্তা বেশিরভাগ মানুষের জন্য অনেক বড় এক সমস্যার নাম। কিন্তু, অতিচিন্তা আপনার সমস্যার কোনো সমাধান দেয় না; বরং বর্তমানের সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়।
কেননা, অতিচিন্তা হলো অসুখী জীবনের সবচেয়ে বড় কারণ। তাই, চিন্তার বেড়াজালে আটকে যাবেন না। নেতিবাচক চিন্তার ধারা থেকে বেড়িয়ে আসুন, চাপ কমান এবং চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করুন।
বর্তমানে থাকুন এবং সেই জিনিসগুলো থেকে মনকে দূরে রাখুন যা আপনার কোনো কাজে আসে না, কখনো আসবেই না।
তাই, নিজের তৈরি অতিচিন্তা ও উদ্বিগ্নতার এই কারাগার থেকে বেড়িয়ে আসুন।
এক্ষেত্রে আপনার জন্য দারুণ এক দিকনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে ‘স্টপ ওভারথিংকিং’ বইটি। অতিচিন্তা, উদ্বিগ্নতা ও চাপে পড়ার কারণ ও ধরণসমূহ এবং এসব থেকে বেড়িয়ে আসার বিস্তারিত কৌশল সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে এই বইয়ে। এই পরীক্ষিত কৌশলগুলো আপনার মস্তিষ্কের পুনর্গঠন, চিন্তার স্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক অভ্যাস বদলে সাহায্য করবে।
সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে নিয়ে আপনার চিন্তা-ধারণা পুরোপুরি পরিবর্তনে এবং অতিচিন্তার প্রবাহ একেবারে থামিয়ে দেওয়ার জন্য অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক কৌশল তুলে ধরেছে বইটি, যা নিঃসন্দেহে জন্য হবে অত্যন্ত ফলপ্রসূ, কার্যকর।হিলিং দ্য এম্পটিনেস : আত্মিক ও মানসিক সুস্থতা অর্জনের গাইডলাইন:আমরা কেন শূন্যতা অনুভব করি? কেনই বা মানুষরে জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসে? ব্যথা কি শুধুই কষ্ট দিতে আসে—নাকি কোনো নিগুঢ় রহস্য আছে এর পেছনে? বিভিন্ন কারণে মানসিকভাবে কেন ভেঙে পড়ে মানুষ? কেমনই বা মানুষ আত্মহত্যা করে? হতাশা-দুঃখবোধ-একাকিত্ব-নিসঙ্গতা এবং মানসিক আঘাতে কিছু মানুষ হারিয়ে যায় অথচ কিছু মানুষ এসব আঘাতকে জয় করে বিজয়ী হয়; প্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠেন লাখো মানুষের—এর কারণ কী?এসব প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান দেবে মেন্টাল ওয়েলবেইং এক্সপার্ট এবং আন্তর্জাতিক মোটিভেশনাল স্পিকার ইয়াসমিন মুজাহিদ রচিত হিলিং দ্য এম্পটিনেস বইটি। বাংলা ভাষায় বইটি প্রকাশ করেছে সুলতানস ও গ্লোবাল বুকশেলভস। বইটি অনুবাদ করেছেন বিশিষ্ট লাইফ কোচ হামিদ সিরাজী।মোট ৬টি ধাপে বইটিতে বিভিন্ন আলোচনা বিবৃত হয়েছে। সূচনা ধাপে তুলে ধরা হয়েছে শূণ্যতা বা একাকিত্বের আদি উৎস শিরোনামের আলোচনা। প্রথম ধাপে আলোচিত হয়েছে ব্যথা-দুর্ভোগের উৎস চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া। দ্বিতীয় ধাপে তুলে ধরা হয়েছে নিরাময়ের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণবিষয়ক আলোচনা। তৃতীয় ধাপে আলোচিত হয়েছে ক্ষতের চিকিৎসা। চতুর্থ ধাপে তুলে ধরা হয়েছে আত্মার সুরক্ষার উপায়। এছাড়া পরিশিষ্ট ধাপে আলোচিত হয়েছে ব্যথাকে ভিন্নভাবে দেখার দিক-নির্দেশনা।