স্টুডেন্ট প্যাকেজ (ওয়াফি পাবলিকেশন)
লেখক : আরিফুল ইসলাম, ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহঃ), হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহ.
প্রকাশনী : ওয়াফি পাবলিকেশন
বিষয় : আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
কভার : পেপার ব্যাক
উত্তরসূরিউত্তরসূরি। আধুনিক শিক্ষিত যুবক আনাস উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ‘নলেজ’ আর ‘স্কলার’ শব্দগুলো শোনামাত্র তার মানসপটে ভেসে ওঠে পাশ্চাত্য সভ্যতার জ্ঞানার্জনের ধারা। কেননা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে জ্ঞানী-গুণী বলতে সে শুধু পাশ্চাত্যের জ্ঞানীদের চিনেছে।তাকে যদি বলা হয়, দশজন জ্ঞানী ব্যক্তির নাম লেখো। সে কখনো সেই তালিকায় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম বুখারী, ইমাম গাজালী, ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে রাখবে না। কারণ, তাঁদের সাথে তার ‘পরিচয়’ নেই। এমন না যে, সে অজ্ঞেয়বাদী বা নাস্তিক। আনাস চরিত্রটি আমাদের আশেপাশের আট-দশজন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণের প্রতিনিধি।উপন্যাসের সেই আনাস কোনো এক কারণে একে একে পরিচিত হতে থাকে মুসলিম সভ্যতার লিজেন্ডদের সাথে। এমন এক ইতিহাসের সাথে পরিচয় হয়, যে ইতিহাস এতদিন তার কাছে চেপে রাখা হয়েছিল। আনাস সেইসব ইতিহাস জেনে অবাক হতে থাকে। সে দেখে, নবীজি (সা.) যাদেরকে তাঁর ‘উত্তরসূরি’ বলেছেন, তারা সেই উত্তরসূরি হওয়াকে টেকেন ফর গ্রান্টেড হিশেবে নেননি। দিন-রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন৷ অজস্র রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন। রচনা করেছেন এমন এক ইতিহাস, যা কখনো ভোলার নয়।চলুন, আনাসের হাত ধরে আমরাও সেই লিজেন্ডদের সাথে পরিচিত হই।নবীদের ওয়ারিশজ্ঞানের ইতিহাস সূচিত হয়েছে মানবজাতি সৃষ্টির শুরু থেকে। যতোটা দীর্ঘ জ্ঞানের ইতিহাস, ঠিক ততোটাই দীর্ঘ জ্ঞান সংরক্ষণের ইতিহাস। নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মহান রব আমাদের মাঝে জ্ঞান পৌঁছে দিয়েছেন। যুগে যুগে জ্ঞানের ধারক-বাহকদের শ্রম-সাধনার মাধ্যমেই মহান রব এই জ্ঞানকে ধরিত্রীর বুকে অক্ষত রেখেছেন। সেইসব জ্ঞানের সাধকদেরকেই হাদীসে বলা হয়েছে নবীদের ওয়ারিশ, নবীদের উত্তরসূরি। কারণ, নবীদের অবর্তমানে তারাই নবীদের আদর্শ জীবিত রাখে। মিথ্যার তিমির আঁধার ছেদ করে তারাই নবীদের বিশুদ্ধ শিক্ষা পৌঁছে দেয় মানুষের দুয়ারে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের জানতে হবে নবীদের প্রকৃত ওয়ারিশ কারা, এই ওয়ারিশ হওয়া কতটা সৌভাগ্যের, জ্ঞানের পথের পথিকদের জন্য কী পুরষ্কার রয়েছে, কেমন হবে নতুন পথিকদের পথ ও পাথেয়। আর এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই ইমাম ইবনু রজব হাম্বলী (রহ.)-এর ‘নবীদের ওয়ারিশ’ বইটি।ইমাম গাযালীর চিঠিজ্ঞানের পথে ‘শর্টকাট’ বলে কিছু যদি থেকে থাকে, তাহলে একটাই আছে। আর তা হলো, অভিজ্ঞদের উপদেশ নেয়া। তাদের উপদেশ হয় গোটা জীবনের সারাংশ। জীবনের কঠিন থেকে কঠিন অভিজ্ঞতার গল্প, প্রতিটি হোঁচট থেকে উঠে দাঁড়াবার গল্প, ব্যর্থতা আর সফলতার রাজপথে চলার গল্প।
.
ইমাম গাযালী (রহ.) এই বইতে এমনই কিছু গল্প বলেছেন। তবে চিঠির ভাষায়। প্রিয় ছাত্রের সমীপে। দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থাকা ছাত্রকে তিনি এখানে শিখিয়েছেন জ্ঞানের আসল স্বরূপ, আখিরাতের রশদ যোগাড়ের পথ-পদ্ধতি। প্রজ্ঞায় ভরপুর কথামালা দিয়ে সাজানো এর প্রতিটি অধ্যায়। হৃদয়গ্রাহী আলোচনায় মোড়ানো এর প্রতিটি বাক্য। যেন বিদায়কালে সন্তানের প্রতি বাবার শেষ অসীয়ত। শত বছর হয়ে গেলেও যার কথাগুলো আজও রয়েছে জীবন্ত।