বিপদমুক্তির হাতিয়ার দুআ ইউনুস
বিপদকে আমরা প্রায়ই ধৈর্য-পরীক্ষা বলে উড়িয়ে দিই। ভাবি এটা নিত্যদিনের অংশ। আসার ছিল তাই এসেছে। এজন্য বিপদের পর বিপদ আমাদের জীবনে আসে, তবুও আমাদের কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রশ্ন জাগে না, বিপদটা কি শাস্তি না পুরষ্কার, বিপদের অন্তর্নিহিত কারণগুলোই-বা কী।আসলে জীবনের সব বিপদ শুধু ধৈর্য-পরীক্ষা হয়ে আসে না। কিছু আসে রহমত হয়ে, তাওবার আহ্বান নিয়ে। কিন্তু আমরা বান্দারা সুবিধাবাদী। বিপদের সময় দাঁতে দাঁত চেপে ধরতে প্রস্তুত, তবুও তাওবাহ করে রহমতের ছায়াতলে ফিরে আসতে চাই না। দুঃখ-কষ্টে দুমড়ে মুচড়ে যেতে পারি, তবুও আল্লাহকে কাজে কর্মে প্রমাণ দিতে পারি না, ‘আল্লাহ, আমি তোমারই…’নবী ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন। কোনো সাধারণ বিপদ নয়, মাছের পেটে বন্দী হবার মতো ভয়াবহ বিপদ। কিন্তু তিনি ভড়কে যান নি। বিপদ দেখে ঠিকই চিনে নিয়েছিলেন তার রবকে। ফলে কাকুতি ভরা এমন একটি মিনতি করেছিলেন, যার পুরোটাই ছিল দাসত্বের চাদরে মুড়ানো। তাওবাহ ও তাওয়াক্কুলে ঘেরা।এমন একটি আলোকিত দুআ, গভীর সমুদ্রের গাঢ় অন্ধকারও যার বাধ সাধতে পারেনি। জল-স্থল ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছিল আরশের মালিকের কাছে। সেই দুআরই রহস্য উন্মোচন নিয়ে এই বইটি। বিপদের মুখে দুআ ইউনুস কীভাবে আপনাকে স্থির রাখতে কার্যকরী, কীভাবে রবের প্রিয় হবার সেরা মাধ্যম, সেই পাঠই পাবেন এর পরতে পরতে।
মিরাকুলাস প্রেয়ারস
আমাদের আর পূর্বসূরীদের মাঝে অন্যতম পার্থক্য হচ্ছে, দুআ। যেখানে আমরা কালেভদ্রে দুআ করি, সেখানে দুআ ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সুদিনে কি দুর্দিনে, হরহামেশা তাদের জিহ্বা ভেজা থাকত দুআয়। দিনের শুরু থেকে দিনান্তে, দুআ কখনও মিস যেত না। রবের সঙ্গে একান্ত আলাপে যে স্বাদ তারা পেতেন, কোনো তুলনা হয় না।
.
দুআ কোনো জাদুমন্ত্র নয় যে, করা মাত্রই চোখধাঁধানো ফল মিলবে। আবার দুআ বিড়বিড় করে পড়া কিছু অবোধ্য শব্দকণাও নয়, যার সাথে যাপিত জীবনের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। দুআর কবুলের জন্য কিছু আদবকেতা দরকার, কিছু কৌশল। যেসব কৌশল ব্যবহার করলে তীরন্দাজের তীর লক্ষ্যচ্যুত হবে না। আমাদের পূর্বসূরীরা এগুলো জানতেন। এজন্য তাদের দুআগুলো হতো তাদের মতই ‘মিরাকুলাস’!
.
তাদের সেসব দুআ কবুলের বিস্ময়কর কাহিনীমালা নিয়েই আমাদের আপকামিং বই ‘মিরাকুলাস প্রেয়ারস: দুআ কবুলের আশ্চর্য ঘটনা।’
.
লেখক খালিদ বিন সুলাইমান আর-রাবয়ী শুরুতে দুআর গুরুত্ব, মর্যাদা ও আনুষঙ্গিক আলোচনা এনেছেন। এরপর প্রবেশ করেছেন মূল বিষয়ে—দুআ কবুলের যত বিস্ময়কর কাহিনি। পূর্ববতী নবি-রাসুল থেকে শুরু করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীন হয়ে যুগের সিঁড়ি ভেঙে ক্রমশ নেমে এসেছে তার কাহিনির আস্তিন। এভাবে সবশেষে স্থান পেয়েছে লেখকের নিজ দেখা বা শোনা থেকে প্রাপ্ত ঘটনাবলি।
.
আশা করি আল্লাহ তায়ালার কুদরতের মহিমায় ভাস্বর এসব ঘটনা পাঠকের মনে আল্লাহ-ভরসা ও দুআ-মুনাজাতের উদ্দীপনা জাগাবে।